সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং বলেন, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৬ বছর বয়সী হাসিনা তার বোনের সঙ্গে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সিএনএন নিউজ ১৮ জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় অবতরণ করেছেন।

৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ উদযাপন করছেন জনগণ। ছবি: রয়টার্স
আগের দিন দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্র আন্দোলনকারীরা দেশব্যাপী কারফিউ অমান্য করে ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে মিছিলের ডাক দিলে হাসিনা পদত্যাগ করেন।
অন্তত ১৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ আগস্টের নিহতের সংখ্যাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে যেকোনো বিক্ষোভে একদিনে সর্বোচ্চ, যা কোটার প্রতিবাদে ১৯ জুলাই শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে ঘটা ৬৭ জনের মৃত্যুকে ছাড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে সরকারি ভবন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কার্যালয়, থানা এবং জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দেশের ৬৪টি প্রিফেকচারের মধ্যে ৩৯টিতে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল সার্ভিস স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্র্যান্ডকে পোশাক সরবরাহকারী দেশীয় পোশাক কারখানাগুলোও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে গত মাসের ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ প্রতিবাদ ও সহিংসতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই বিক্ষোভ এখন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যিনি জানুয়ারিতে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
দাঙ্গায় প্রায় ২৫০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন।
সেনাপ্রধান জামান বলেছেন, তিনি সব প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্রই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
টেলিভিশনের ছবিতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ উল্লাসে স্লোগান দিতে দিতে রাজধানী ঢাকার রাস্তায় নেমে এসেছেন। হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিতে দিতে, মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে এবং বিজয়ের চিহ্ন প্রদর্শন করতে করতে হাসিনার সরকারি বাসভবনেও ঢুকে পড়েন।
অট্টালিকাটির বৈঠকখানাগুলোতে ভিড় জমেছিল। কেউ কেউ বাংলাদেশের অন্যতম কড়া পাহারার এই ভবনটি থেকে টেলিভিশন, চেয়ার ও টেবিল নিয়ে যাচ্ছিল। কেউ কেউ চিৎকার করে বলছিল, “সে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।”
ঢাকার বিক্ষোভকারীরা হাসিনার বাবা, স্বাধীনতা নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল মূর্তির চূড়ায়ও উঠে পড়ে এবং কুড়াল দিয়ে মূর্তিটির মাথা খোদাই করে ভাঙতে শুরু করে।
এনগোক আনহ (রয়টার্সের মতে)
[বিজ্ঞাপন_২]
উৎস: https://www.congluan.vn/thu-tuong-bangladesh-sheikh-hasina-tu-chuc-tron-khoi-dat-nuoc-post306461.html







